• ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

SIR

দেশ

এসআইআর নিয়ে শুনানি, তারপরই হুমকি! অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নিরাপত্তা নিয়ে বড় পদক্ষেপ শীর্ষ আদালতের

এসআইআর প্রক্রিয়ার পর বিবেচনাধীন ভোটারদের নামের নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। সেই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে থাকা এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নিরাপত্তা নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠল। হুমকি, পথ দুর্ঘটনা এবং বাড়িতে চিঠি আসার অভিযোগের পর বিষয়টি পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে। এবার নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।অবসরপ্রাপ্ত ওই বিচারপতির ছেলে তাঁর বাবার নিরাপত্তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, এসআইআর সংক্রান্ত আপিলের শুনানির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর বাবা এবং পরিবারের সদস্যরা হুমকির মুখে পড়ছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনে প্রভাব বিস্তার করতেই এই ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।আবেদন অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পথে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি একটি পথ দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে পুলিশের তরফেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর কয়েক দিন পর রাজারহাটের বাড়িতে একটি হুমকি চিঠি পৌঁছয়। পরে কলকাতার বাড়িতেও একই ধরনের হুমকি চিঠি আসে বলে অভিযোগ।এই পরিস্থিতিতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও তাঁর পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত এবং বাড়তি নিরাপত্তার আবেদন করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চ জানায়, নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারী কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে যেতে পারেন।শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির আবেদনটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে। ফলে এখন অবসরপ্রাপ্ত ওই বিচারপতি এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে হাইকোর্ট কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর থাকবে।এসআইআর সংক্রান্ত আপিলের দায়িত্বে থাকা এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে ঘিরে হুমকি ও নিরাপত্তার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। পথ দুর্ঘটনা এবং পরপর হুমকি চিঠির অভিযোগের পর সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
দেশ

ভোটের আগে বড় ধোঁয়াশা! বিচারাধীন ভোটাররা কি ভোট দিতে পারবেন? স্পষ্ট জানাল আদালত

পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হল। রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে এবং যাঁদের আবেদন এখনও বিচারাধীন, তাঁদের যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে, আপাতত বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি জানান, মোট ৬০ লক্ষ ৪ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। এখনও প্রায় ১৮২৩টি মামলা প্রযুক্তিগত কারণে মুলতুবি রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।বিচারপতি বাগচী জানান, প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। যাঁদের নাম ৬, ৭ এবং ৮ এপ্রিল বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে, তাঁরা ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন।রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, কিছু এলাকায় প্রকাশিত তালিকায় থাকা সব ভোটারই এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অথচ এমন ধারণা তৈরি করা হচ্ছে যেন সব মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। তিনি জানান, প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন এখনও বিচারাধীন এবং তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, এই প্রশ্ন ওঠেই না। তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের উপর কোনওরকম চাপ সৃষ্টি করা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়।এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আদালতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এবং তারা তাদের ভোটাধিকার চায়। এই সময় অন্য পক্ষের আইনজীবী জনসংখ্যার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তোলেন। পাল্টা জবাবে কল্যাণ বলেন, বাংলাকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করা উচিত নয়।মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী আদালতে আইনের বিভিন্ন ধারা তুলে ধরে বলেন, যাঁদের ভোটাধিকার হারিয়েছে বা যাঁরা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই দাবি খারিজ করা হয়।সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি বাগচী জানান, বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য আদালতের কিছু সময় প্রয়োজন। দুই পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
কলকাতা

বাংলায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ, তবু শীর্ষে নয়! তালিকার শীর্ষে কোন রাজ্য জানলে চমকে উঠবেন

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই নিয়ে রাজ্যে ক্ষোভ, বিক্ষোভ এবং উদ্বেগের ছবি সামনে এসেছে। তবে অবাক করার বিষয়, নাম বাদ পড়ার সংখ্যায় বাংলা শীর্ষে নেই।তথ্য বলছে, এই তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে খসড়া তালিকাতেই প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। ফলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বাংলায় মোট ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতেও বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। সেখানে প্রায় ৭৪ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।কেরলে প্রায় ৯ লক্ষ নাম বাদ গেছে। পুদুচেরিতে মোট ভোটারের তুলনায় প্রায় ১ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। এই রাজ্যগুলির মধ্যে অসমে এই প্রক্রিয়া হয়নি।বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে গুজরাটে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে। সেখানে প্রায় ৭৭ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে। শতাংশের হিসাবে গুজরাট বাংলাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।মধ্যপ্রদেশে প্রায় ৩৪ লক্ষ, রাজস্থানে প্রায় ৩১ লক্ষ এবং ছত্তিশগড়ে প্রায় ২৫ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এই সব রাজ্যেও শতাংশের হিসেবে নাম বাদ পড়ার হার বাংলার থেকে বেশি।তবে সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উত্তরপ্রদেশে। সেই কারণে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশে দেরি হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সময় নিয়ে এই তালিকা তৈরি করছে বলে জানা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই তথ্যকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।

এপ্রিল ০৭, ২০২৬
দেশ

এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ! রাতেই প্রকাশ পাবে সম্পূরক তালিকা

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়। এর আগে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, বিচারবিভাগের তত্ত্বাবধানে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেই মতো জুডিশিয়াল অফিসারদের নজরদারিতে কাজ চলছে। শুনানিতে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৯ লক্ষের বেশি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়, বাকি প্রায় ছাব্বিশ হাজার আবেদনও খুব শীঘ্রই মিটিয়ে ফেলা হবে এবং সোমবারের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চলছে।আদালতে জানানো হয়, বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও মালদহে প্রায় আট লক্ষ মানুষের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আবেদনকারীদের স্বীকৃতি পত্র দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রত্যেক আবেদনকারীকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নোডাল অফিসারের উপর থাকবে।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত একটি চিঠি দেখানোর জন্য আদালতে মোবাইল ব্যবহার করেন, যা নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে ধরা হয়। একইসঙ্গে অ্যাপিল ট্রাইব্যুনালের পরিকাঠামো ও বিচারকদের পারিশ্রমিক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ওয়েবসাইটে আবেদন জমা দেওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে জমা দেওয়া নথির কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি।আদালত জানায়, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের বক্তব্য অবশ্যই শোনা উচিত এবং কেন নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা জরুরি এবং সেই দিকেই নজর রাখতে হবে। তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে ভোটাধিকার দেওয়া যাবে না।রাজ্যের তরফে আবেদন করা হয়, যাঁদের নামের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, তাঁদের অন্তত ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই চলছে এবং যাঁরা অসন্তুষ্ট, তাঁরা আপিল করতে পারেন।শুনানিতে রাজনৈতিক বিতর্কও উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রীর কিছু মন্তব্য আদালতে তুলে ধরা হয়। কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকে পাল্টা একটি ভিডিও দেখিয়ে অভিযোগ করা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, ট্রাইব্যুনাল দ্রুত সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিকভাবে নথি যাচাই করা হবে। প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বলা হয়েছে এবং সমস্ত আবেদন ডিজিটাল স্বাক্ষর সহ প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালত আরও জানায়, শুধুমাত্র কলকাতায় নয়, জেলা স্তরেও আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারের দফতর থেকেও আপিল জমা নেওয়া যাবে এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে রসিদ দিতে হবে।কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার রাতের মধ্যেই সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পোর্টালে আপলোড করা হবে। একটি বিশেষ ক্ষেত্রে নন্দলাল বসুর নাতির আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৯ তারিখের মধ্যে তা সম্পূর্ণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ১৩ এপ্রিল।

এপ্রিল ০৬, ২০২৬
রাজ্য

কালিয়াচকের পর ফের উত্তপ্ত মালদহ! জাতীয় সড়ক অবরোধে তীব্র বিক্ষোভ

কালিয়াচকের ঘটনার পর মালদহে পরিস্থিতি এখনও অশান্ত। বুধবারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুরাতন মালদহ ব্লকের মঙ্গলবাড়ি এলাকায় নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁদের কাছে সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়েন স্থানীয় মানুষ। জাতীয় সড়কের উপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু হয়। কয়েকটি জায়গায় বাঁশ ফেলে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছে।এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।এর আগের দিন কালিয়াচকে একই ইস্যুতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে সাতজন বিচারককে একটি সরকারি দফতরে আটকে রাখেন। তাঁদের মধ্যে মহিলা বিচারকরাও ছিলেন। দীর্ঘ সময় ঘেরাওয়ের পর গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।এই ঘটনার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং নতুন করে মঙ্গলবাড়ি এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
কলকাতা

প্রার্থী হয়েও ভোটার তালিকায় নাম নেই! হাইকোর্টে চাঞ্চল্য, সুপ্রিম কোর্টে ছুটছেন কংগ্রেস প্রার্থী

মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হলেও তাঁর নাম নাকি এসআইআর তালিকায় নেই। এই বিষয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁর আইনজীবী।মামলাকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, একজন প্রার্থী হয়েও যদি তাঁর নাম ভোটার যাচাইয়ের তালিকায় না থাকে, তা হলে তা গুরুতর বিষয়। পাশাপাশি আরও জানানো হয়, এই সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি। তাই আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেই আবেদন করা হয়।তবে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত মামলার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টেই হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, এই ধরনের মামলার শুনানি কোনও হাইকোর্ট করতে পারবে না। কলকাতা হাইকোর্ট শুধু প্রশাসনিক দিকটি দেখছে। তাই আবেদনকারীকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী পয়লা এপ্রিল মহতাব শেখ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাবেন।এই ঘটনার মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক প্রার্থীও এখনও এসআইআর তালিকায় বিবেচনাধীন রয়েছেন। কাজল শেখ এবং শশী পাঁজার নাম দ্বিতীয় তালিকায় উঠে এলেও এখনও আরও কয়েকজনের নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে এই বিষয়টি বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভোটারকে আলাদা করে যাচাইয়ের জন্য রেখেছে। বিশেষ করে উত্তর কলকাতার একাংশে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি।এই নিয়ে জনসভা থেকেও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির প্রভাবে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে বা জটিলতা তৈরি করছে।এদিকে সূত্রের খবর, এই বিষয় নিয়ে তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে চলেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ভোটের আগে এই বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ৩০, ২০২৬
কলকাতা

ষাট লক্ষ ভোটারের ভাগ্য ঝুলে! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উত্তরে বাড়ল ধোঁয়াশা

এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ষাট লক্ষ। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের তরফে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে ইতিমধ্যেই দশ লক্ষ ভোটারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ভোটের আগে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিবেচনাধীন ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে এড়িয়ে গেলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।এর আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও বিবেচনাধীন ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনও দিশা দিতে পারেননি। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানেশ কুমার জানান, বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি পরীক্ষা করে দেখার কাজ করছেন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং সেখানে জানিয়েছেন যে দশ লক্ষ ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে বাকি পঞ্চাশ লক্ষ ভোটারের বিষয় নিয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি শুধু বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা উচিত।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গত আটাশ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকার পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে। প্রার্থীদের মনোনয়নের আগের দিন পর্যন্ত এই তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে বলে নির্দেশ রয়েছে। ফলে বিবেচনাধীন ভোটারদের অনেককেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে তাঁদের ভোটাধিকার রয়েছে কি না তা জানার জন্য।এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বিবেচনাধীন ভোটারদের বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোটের ঘোষণা করা উচিত নয়। তবে নির্বাচন কমিশন আগামী সপ্তাহেই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে পারে বলে জল্পনা চলছে। অর্থাৎ ভোটের সময় একেবারেই সামনে চলে এসেছে। হাতে সময় খুবই কম। এখনও পর্যন্ত মাত্র দশ লক্ষ ভোটারের নথি পরীক্ষা শেষ হয়েছে, বাকি বিপুল সংখ্যক ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি বাকি। এত কম সময়ে এই বিশাল কাজ শেষ করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকেও এখনও স্পষ্ট কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে বিবেচনাধীন লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যেই ঝুলে রইল।

মার্চ ১০, ২০২৬
রাজ্য

ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, দিনহাটায় অনশনে বসলেন উদয়ন গুহ

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করল তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কমিশনের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন একই ইস্যুতে কোচবিহারের দিনহাটায় গণ অনশনে বসলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। সোমবার তাঁর নেতৃত্বে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।উদয়ন গুহ অভিযোগ করেছেন, বিজেপির ইঙ্গিতে নির্বাচন কমিশন সাধারণ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। অনেক ভোটারের নাম আবার অমীমাংসিত তালিকায় রেখে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই দিনহাটায় গণ অনশন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নামে বহু ভোটারের নাম অমীমাংসিত তালিকায় রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী দিনহাটায় ইতিমধ্যেই বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তার উপর আরও বহু নাম এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।জেলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে দুই লক্ষ সাতত্রিশ হাজারেরও বেশি নাম। এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন উদয়ন গুহ।অনশন শুরু করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতায় দলের নেতা কর্মীরা অবস্থান করছেন। বিজেপির চাপে পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশন সাধারণ ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে অথবা তাঁদের নাম বিচারাধীন অবস্থায় রেখে মানসিক চাপ তৈরি করছে। বিচারাধীন তালিকার নিষ্পত্তি কবে হবে, সে বিষয়ে কমিশন স্পষ্ট করে কিছু জানাচ্ছে না। সেই কারণেই দিনহাটায় এই গণ অনশন শুরু করা হয়েছে।বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাই তাদের সবচেয়ে নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক জীবনে এত পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশন তিনি কখনও দেখেননি বলেও দাবি করেন।উদয়ন গুহর অভিযোগ, বিজেপির সুবিধা হবে কি না সেই দিকেই নজর রেখে কমিশন কাজ করছে। তবে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ অনেক বেশি সচেতন। এই ধরনের চক্রান্তকে কীভাবে প্রতিহত করতে হয় তা বাংলার মানুষ জানে।রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি যে দাবি করছে, সেই প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন উদয়ন গুহ। তিনি বলেন, যাঁরা এই দেশে জন্মেছেন তাঁদের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে। যদি সত্যিই রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু সেই অজুহাতে সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া চলবে না।তিনি আরও অভিযোগ করেন, যেখানে বিজেপি দুর্বল সেখানে পরিকল্পনা করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তাঁদের আন্দোলন। অনশন কতক্ষণ চলবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে উদয়ন গুহ বলেন, শরীরে যতক্ষণ শক্তি থাকবে ততক্ষণ তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। ভোটের আগে ভোটার তালিকা ঘিরে এই বিতর্ক ও আন্দোলন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

মার্চ ০৯, ২০২৬
দেশ

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, সরাসরি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ! নতুন করে বিতর্কে এসআইআর

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ল। এসআইআর ইস্যুতে আবারও শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন একদল আবেদনকারী। সোমবার কলকাতায় যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, ঠিক সেই সময় দিল্লিতে শীর্ষ আদালতে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।যাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের পক্ষ থেকেই এই মামলা করা হয়েছে। তাঁদের হয়ে আইনজীবী হিসেবে আবেদন করেছেন মেনকা গুরুস্বামী। তিনি দ্রুত শুনানির আবেদনও জানিয়েছেন।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই আবেদন করা হয়। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাধারণত সরাসরি আবেদন করা যায় না। তখন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে জানান, আবেদনকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং তাঁদের জমা দেওয়া নথিও গ্রহণ করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।আদালত জানিয়েছে, মঙ্গলবার এসআইআর সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলির সঙ্গে এই আবেদনটিও শোনা হবে।এদিকে রবিবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সোমবার সকাল থেকেই তিনি একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বামফ্রন্ট, বিজেপি, কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে বিভিন্ন দল নিজেদের দাবি তুলে ধরেছে। সূত্রের খবর, আলোচনার সময় বারবার শীর্ষ আদালতের প্রসঙ্গ তুলেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের সময় জ্ঞানেশ কুমার নাকি বলেন, আপনারাই যখন শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন, তখন আবার ষাট লক্ষ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করছেন কেন।তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ভোটার তালিকায় যে অসঙ্গতি রয়েছে তা এখনও পুরোপুরি সংশোধন করা হয়নি। আনম্যাপড ভোটারদের বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের পক্ষ থেকে কমিশনকে জানানো হয়েছে, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায়।চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আরও দাবি করেন, এই বিষয়গুলি শুনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, আপনারা তো শীর্ষ আদালতে গিয়েছেন।ভোটের আগে এসআইআর ইস্যু ঘিরে এই আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

মার্চ ০৯, ২০২৬
রাজ্য

ভোটার তালিকায় মৃত্যু ঘোষণা, সরকারি পরিষেবা বন্ধের আশঙ্কায় দিশেহারা পরিবার

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় মৃত! এমনই অবিশ্বাস্য ঘটনার অভিযোগ উঠেছে কালনা পুরসভার বারো নম্বর ওয়ার্ডে। খসড়া ভোটার তালিকায় নামের পাশে মৃত বলে উল্লেখ করা হলেও, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আর নামই নেই বিয়াল্লিশ বছরের পূর্ণ সাহার। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।পূর্ণ সাহা পেশায় দিনমজুর। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী। অভিযোগ, এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার পরেও খসড়া তালিকায় তাঁর নামের পাশে মৃত বলে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি নিজেই কালনা পুরসভায় যান এবং ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহের চেষ্টা করেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়ে বসে প্রশাসন। তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়, ভোটার তালিকায় জীবিত হিসেবেই নাম তোলা হবে।কিন্তু সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, তাঁর মা ও স্ত্রীর নাম থাকলেও পূর্ণ সাহার নাম নেই। ফলে জীবিত থেকেও সরকারি ভাবে মৃত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে তাঁর পরিবারের। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। ইতিমধ্যেই নানা হেনস্থা ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ।এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। তৃণমূলের দাবি, পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের হাতে, তাই দায় তাদেরই। পাল্টা বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে নিয়োগ পাওয়া বুথ স্তরের কর্মীরাই এই ধরনের ভুল করছেন। সাধারণ এক দিনমজুরের জীবনে প্রশাসনিক ভুল কত বড় প্রভাব ফেলতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।

মার্চ ০৪, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, জেলায় জেলায় চাঞ্চল্য! কোথায় কত নাম বাদ গেল জানলে চমকে উঠবেন

অবশেষে প্রকাশিত হল এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা। আপাতত অফলাইনে তালিকা প্রকাশ হয়েছে। ডিএম ও বিডিও অফিসে পৌঁছে গিয়েছে হার্ড কপি। ব্লকে ব্লকে বিএলও-দের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে সেই তালিকা। তাঁরা তালিকা সংগ্রহ করে বুথের দিকে রওনা দিচ্ছেন। খুব শিগগিরই রাজ্যবাসী বুথে গিয়ে নিজের নাম মিলিয়ে নিতে পারবেন। অনলাইন এবং অফলাইনদুইভাবেই তালিকা দেখার সুযোগ থাকবে, তবে এখনও পর্যন্ত অফলাইনেই তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। জেলায় জেলায় বুথে তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নন্দীগ্রাম থেকে ঠাকুরনগর, সর্বত্র একই ছবি। তালিকা সামনে আসতেই কোথায় কত নাম বাদ গেল, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে। কোথাও বিএলও জানাচ্ছেন, নাম বাদ যায়নি। আবার কোথাও অভিযোগ উঠছে, বিএলও-র নিজের নামই অমীমাংসিত তালিকায় চলে গিয়েছে।নন্দীগ্রামের চড়কেন্দ্রমারির এক বুথের বিএলও জানিয়েছেন, তাঁর হাতে যে তালিকা এসেছে তাতে ৯৫৩ জন ভোটারের নাম রয়েছে। খসড়া তালিকার সঙ্গে চূড়ান্ত তালিকার কোনও বড় পার্থক্য নেই বলেই তিনি দাবি করেছেন। তবে ২১৯ নম্বর বুথের বিএলও জানিয়েছেন, কিছু নাম বাদ গিয়েছে। যদিও বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া অধিকাংশের নাম রয়েছে বলেই তাঁর দাবি। অন্যদিকে নন্দীগ্রামের এক ব্লকের এক বিএলও অভিযোগ করেছেন, তাঁর নিজের নামই মীমাংসিত তালিকায় নেই। অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম। তিনি জানিয়েছেন, ২৭ বছর ধরে চাকরি করছেন, সমস্ত নথি রয়েছে, বানানেও ভুল নেই, পাসপোর্টও আছে। তবু কেন তাঁর নাম বিচারাধীন হল, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।বাঁকুড়াতেও বুথে বুথে চূড়ান্ত তালিকা টাঙানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত ৩ হাজার ৩০০ জনের নাম বাদ পড়েছে। খসড়া তালিকায় ১ লাখ ৩২ হাজার নাম বাদ গিয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ জনের নাম বাদ পড়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। ৭০ নম্বর বুথে বাদ গিয়েছে ৩ জনের নাম। অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার নাম।উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৩১ হাজার ১৬৯ জন। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ৯৭১ জনের নাম বাদ পড়েছে। ঠাকুরনগরে সবথেকে বেশি নাম আনম্যাপড হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ৩০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে সেখানে। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন বহু বাসিন্দা।কলকাতার উত্তর অংশে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার নাম বাদ গিয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। দক্ষিণ কলকাতায় খসড়া তালিকায় ৬ লাখ ৯১ হাজার ৩০৬ জনের নাম ছিল। চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৯৯ জনের নাম। অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে ৭৮ হাজার ৬৫৭ জনের নাম।মুর্শিদাবাদে অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ৬ লাখ নাম। চূড়ান্ত তালিকায় কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উত্তর ২৪ পরগনায় অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার নাম। পশ্চিম মেদিনীপুরে অমীমাংসিত তালিকায় প্রায় ১ লাখ নাম রয়েছে। নদিয়ায় প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ৬০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে এবং অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার নাম।এদিকে এখনও পর্যন্ত অনলাইনে তালিকা প্রকাশ হয়নি। জানা গিয়েছে, দুপুর গড়িয়ে যেতে পারে অনলাইনে তালিকা প্রকাশ পেতে। তালিকা প্রকাশ হলে দুটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাজ্যবাসী নিজেদের নাম খুঁজে দেখতে পারবেন। ফলে এখন সবার নজর অনলাইনে প্রকাশের দিকেই।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
রাজ্য

মৃত্যুর ছায়া এসআইআর প্রক্রিয়ায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চাকরি দিতে এগোল রাজ্য

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া বা এসআইআর ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্ন-এ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঠিক হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার জেরে মৃত বা চরম হয়রানির শিকার পরিবারগুলির একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে।এসআইআর ঘিরে বিতর্ক শুরু হয় একটি আত্মহত্যার ঘটনার পর। পরে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬। কেউ আত্মহত্যা করেছেন, আবার কারও স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর-জনিত আতঙ্কই এর মূল কারণ। শাসকদলও একাধিক ক্ষেত্রে একই অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।সূত্রের খবর, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির একজন সদস্যকে হোম গার্ড পদে নিয়োগ করা হবে। ইতিমধ্যেই জেলা ভিত্তিক তালিকা তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুধু মৃতদের পরিবার নয়, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ ও হয়রানির অভিযোগ থাকা আরও পাঁচটি পরিবারকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। সেই পরিবারগুলির একজন সদস্যও চাকরি পাবেন বলে জানা গিয়েছে।তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এই চাকরির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। হোম গার্ড পদে কম বেতন, পেনশন ও গ্র্যাচ্যুইটির অভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবছর চাকরি নবীকরণ করতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে নবীকরণ না হওয়ায় বহু কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। সিভিক ভলান্টিয়ারদের ক্ষেত্রেও এমন উদাহরণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে বড় ধাক্কা, ঝুলে রয়েছেন ষাট লক্ষ ভোটার, শেষ মুহূর্তে কী হতে চলেছে

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা সাত কোটি ছেষট্টি লক্ষ সাতত্রিশ হাজার পাঁচশো উনত্রিশ। তবে চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকতে পারে প্রায় সাত কোটি আট লক্ষ মানুষের। অর্থাৎ প্রায় আটান্ন লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েক মাস আগে প্রকাশিত খসড়া তালিকাতেও একই সংখ্যক নাম বাদ পড়েছিল। তাই প্রশ্ন উঠছে, চূড়ান্ত তালিকায় আদৌ কোনও বড় পরিবর্তন হচ্ছে কি না।ভোটারদের তিনটি ভাগে দেখা হচ্ছে। প্রথমত যাঁরা অনুমোদিত, দ্বিতীয়ত যাঁদের বিষয় এখনও অমীমাংসিত, এবং তৃতীয়ত যাঁদের নাম বাদ পড়েছে। অনুমোদিত ভোটারদের ক্ষেত্রে সমস্যা নেই। বাদ পড়াদের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট কারণ থাকলে বিতর্ক কম। কিন্তু সবচেয়ে বড় জট তৈরি হয়েছে অমীমাংসিত ভোটারদের নিয়ে।ভারতের নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে প্রায় ষাট লক্ষ ছয় হাজার ভোটার অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছেন। এঁদের ক্ষেত্রে নথিতে যুক্তিগত অসঙ্গতি রয়েছে অথবা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। কোথাও যাচাই হলেও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এই ভোটারদের নাম আপাতত চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে, তবে অমীমাংসিত হিসেবেই। এতে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় বাড়ছে।এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী অভিযোগ করেছেন, কমিশনের পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে দল রাস্তায় আন্দোলন ও আইনি লড়াই দুটিই করবে। অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র আইনি পদক্ষেপের ফলেই একাধিক তালিকা প্রকাশের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং অনুপ্রবেশকারীদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ্যে আসা উচিত। তিনি কমিশনকে সব তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিতর্কে ভারতীয় জনতা পার্টিও কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।ভোটাধিকার নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সামনে নির্বাচন, তার আগে বিপুল সংখ্যক ভোটার কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, আর ভোট দেওয়ার পর যদি যাচাইয়ে নাম বাতিল হয় তবে দায় কার হবে, সেই প্রশ্নও উঠছে। যদি অমীমাংসিতদের বড় অংশ বাদ পড়ে, তাহলে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা এক কোটিরও বেশি হতে পারে।সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বিশেষ পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে এবং তিনি হস্তক্ষেপ না করলে আরও প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারত। ফলে অনেকের মতে, অমীমাংসিত ষাট লক্ষ ভোটারের দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন তিনি।কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, আপাতত অমীমাংসিত ভোটাররাও ভোট দিতে পারবেন। ভোটের দফার আগে একটি সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকা থেকেই স্পষ্ট হবে কারা বৈধ ভোটার হিসেবে থাকবেন এবং কারা বাদ পড়বেন। বিষয়টি ইতিমধ্যেই আইনি পর্যায়েও পৌঁছেছে এবং প্রয়োজন হলে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও আরও শুনানি হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
রাজ্য

নথি যাচাইয়ে ব্যস্ত বিচারকরা, কার্যত থমকে গেল বারাসত আদালতের স্বাভাবিক বিচারপ্রক্রিয়া

নথি যাচাইয়ের বিশেষ কাজে ব্যস্ত থাকায় বারাসত আদালতের অধিকাংশ বিচারক আগামী নয় মার্চ পর্যন্ত আদালতে উপস্থিত থাকবেন না বলে জানা গিয়েছে। ফলে স্বাভাবিক বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত ধাক্কা খেয়েছে। বারাসত আদালতে মোট পনেরো জন বিচারকের এজলাস বসে। একজন জেলা বিচারক-সহ মোট আট জন অতিরিক্ত জেলা বিচারক নথি যাচাইয়ের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বাকি বিচারকদের উপরেই সমস্ত আদালতের দায়িত্ব এসে পড়েছে। অর্থাৎ ছয় জন বিচারককে পনেরোটি আদালতের কাজ সামলাতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এতে বিচার ব্যবস্থায় তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, এই পরিস্থিতিতে মামলাকারীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। বহু মামলার নিষ্পত্তির সময় ঘনিয়ে এলেও শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে। কোথাও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন থাকলেও বিচারক না থাকায় সাক্ষীরা আদালতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। অনেক কষ্টে সাক্ষী হাজির করেও শুনানি না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে। মামলাগুলি আবার কবে স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন আইনজীবীরা।পাবলিক প্রসিকিউটর বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী বলেন, আপাতত নয় তারিখ পর্যন্ত এই সমস্যা চলবে এবং পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কিছু মামলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকলেও বিচারক অনুপস্থিত থাকায় সেগুলিও এগোচ্ছে না। বিচারকরা যতদিন নথি যাচাইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকবেন, ততদিন আদালতে এই অচলাবস্থা চলবে বলেই মত তাঁর।অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর শ্যামলকান্তি দত্ত জানান, নিম্ন আদালতের বহু বিচারক নথি যাচাইয়ের কাজে চলে যাওয়ায় দ্রুত বিচার আদালতগুলিকে একসঙ্গে একাধিক মামলার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। সেখানে নিজেদের মামলার পাশাপাশি অন্য মামলাও সামলাতে হচ্ছে। ফলে জামিন সংক্রান্ত কাজ ছাড়া অন্য শুনানি প্রায় বন্ধ। বহু মামলার নিষ্পত্তির সময় পার হয়ে গেলেও শুনানি এগোচ্ছে না এবং সাক্ষীরা এসে ঘুরে চলে যাচ্ছেন।এই পরিস্থিতিতে বারাসত আদালত এলাকায় আইনজীবী ও মামলাকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক না হলে মামলার জট আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
কলকাতা

এসআইআর বৈঠক ঘিরে নতুন ঝড়, গ্রেফতারের দাবিতে মনোজ পন্থকে নিশানা বিজেপির

মুখ্যসচিব পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মনোজ পন্থ। বর্তমানে মুখ্যসচিব পদে রয়েছেন নন্দিনী চক্রবর্তী। তবে এসআইআর প্রক্রিয়ার আবহে এবার বিতর্কে জড়ালেন মনোজ পন্থ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের ও গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। অভিযোগ, নির্দিষ্ট এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির অভিযোগের জবাব দিয়েছে রাজ্য সরকার।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে এসআইআর যাচাইয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বৈঠক হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সঙ্গে। ওই বৈঠকে মনোজ পন্থকে কেন পাঠানো হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের। কিন্তু সেই বৈঠকে মনোজ পন্থও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। এই বিষয়েই সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, কোন ক্ষমতাবলে মনোজ পন্থ বৈঠকে ছিলেন এবং এর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।বিজেপির এই অভিযোগের জবাবে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির অনুমতি নিয়েই মনোজ পন্থ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত সমন্বয় বৈঠকে একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালসহ অন্য আধিকারিকরাও ছিলেন। ফলে এই উপস্থিতি নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে বলেই মত রাজ্য সরকারের।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
রাজ্য

চূড়ান্ত তালিকার আগে বড় ধাক্কা, এক এলাকাতেই বাদ পড়তে পারে সাড়ে আট হাজার ভোটার

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার মুখে পৌঁছালেও জটিলতা কাটছে না। আগামী আটাশ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। কিন্তু নথি জমা দেওয়ার পরও বহু ভোটার অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এর মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, বিপুল সংখ্যক নথি এখনও আপলোড হয়নি। নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে লক্ষ্মীপুর এলাকায়, যেখানে প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুতির লক্ষ্মীপুর এলাকার বহু ভোটার এই অভিযোগ সামনে এনে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দফতরে ছুটে এসেছেন। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দেওয়ার পরও দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী নির্বাচনী আধিকারিক সেই নথি আপলোড করেননি। ফলে বৈধ ভোটার হয়েও তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।ভোটারদের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে যে তেরো ধরনের নথি জমা দেওয়ার কথা, তার মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি তাঁরা জমা দিয়েছেন। অভিযোগ, এক থেকে পঁচানব্বই নম্বর বুথ পর্যন্ত বহু ভোটারের নথি আপলোড হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে এই তথ্য জানার পরই তাঁরা দ্রুত কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। হাতে সময় খুব কম থাকায় কী হবে তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ভুলের কারণে লক্ষাধিক বৈধ ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে। নির্বাচনী আধিকারিক ও সহকারী আধিকারিকদের গাফিলতির জেরে বহু নথি আপলোড হয়নি বলে অভিযোগ। কমিশন সূত্রে খবর, অন্তত এক লক্ষ চোদ্দ হাজার ভোটারের নথি জমা পড়েনি বা আপলোড হয়নি বলে দাবি উঠেছে। ফলে সেই সব নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোটের আগে এই পরিস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ বাড়িয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
কলকাতা

বড় নির্দেশ হাইকোর্টের, এসআইআর ঘিরে রাজ্যের সব বিচারকের ছুটি বাতিল

এসআইআর সংক্রান্ত কাজ এবার বিচার বিভাগের তদারকিতেই হবে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সমস্ত বিচারকের ছুটি বাতিল করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অসুস্থতা ছাড়া কোনও বিচারক ছুটি নিতে পারবেন না। এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে বড় দায়িত্ব বিচার বিভাগের উপর দেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।এসআইআর-এর কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিম্ন আদালতের কাজ স্বাভাবিক রাখতে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। হাইকোর্ট প্রত্যেক জেলায় জেলা বিচারক, জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারকে নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় আড়াইশো বিচারকের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের তরফে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় একজন করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক চাওয়া হয়েছিল এবং সেই তালিকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে পাঠিয়েছেন।জানা গিয়েছে, মাদক ও পকসো সংক্রান্ত আদালতের প্রায় একশো বিচারক এবং অন্যান্য মামলার দেড়শো বিচারকের নাম এই তালিকায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও শীঘ্রই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, বিশেষ পর্যবেক্ষক, পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জেলা বিচারক বা অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের বিচার বিভাগীয় আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে এবং তাঁদের কাজে কোনও বাধা বা অসম্মান বরদাস্ত করা হবে না। সব প্রশাসনিক স্তরকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কাজে সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
রাজ্য

ফাঁস অডিওতে বড় দাবি, টাকা দিলেই ভোটার তালিকায় নাম, বাগদায় তোলপাড়

উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদা এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, মাথাপিছু টাকা দিলেই ভোটার তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন এক বুথ স্তরের আধিকারিক। এই আবহে একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও ভাইরাল অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযুক্ত বুথ স্তরের আধিকারিকের নাম চন্দ্রকান্ত মণ্ডল। তিনি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেও জানা গিয়েছে। ভাইরাল অডিওতে শোনা যায়, এক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য মাথাপিছু দশ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। মোট ছয় জনের নাম তোলার কথা উল্লেখ করে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। মাইক্রো পর্যবেক্ষকের নাম করে এই টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর প্রাক্তন বিধায়ক দুলাল বর ইমেলের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।যাঁদের নাম তোলার জন্য টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, ওই পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি এ দেশে এসেছেন এবং বিভিন্ন উপায়ে পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছে। দুই হাজার দুই সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের কারও নাম ছিল না বলেও স্থানীয় সূত্রে খবর। বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার আবহে পরিবারের সদস্যদের নাম তুলতে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।অভিযোগ অবশ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আধিকারিক। তাঁর দাবি, প্রযুক্তির সাহায্যে কণ্ঠস্বর নকল করে এই অডিও তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি-র মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টা অভিযোগের রাজনীতি। স্থানীয় তৃণমূল নেতা তরুণ ঘোষ জানান, কেউ অন্যায় করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরকার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, শাসকদলের মদতেই এই ধরনের কাজ হচ্ছে। যে পরিবারকে ঘিরে অভিযোগ উঠেছে, তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত, হঠাৎ সক্রিয় নির্বাচন কমিশন, কী ঘটতে চলেছে জানেন?

দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়ার তৃতীয় ধাপ এখন শেষের পথে। বিহারে এই কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গ-সহ আরও বারোটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কাজ চলছে। শুরুতে এই প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। কবে শুরু হবে বা আদৌ সব রাজ্যে হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে এবং কমিশনও পরবর্তী পদক্ষেপে এগোতে শুরু করেছে।বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন যেসব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কাজ এখনও শুরু হয়নি, সেই সব জায়গার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জনের জন্য আগাম সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ পরিকাঠামো, কর্মী ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আগে থেকেই গুছিয়ে রাখতে বলা হয়েছে।চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী এপ্রিল মাস থেকে বাকি থাকা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে এই বিশেষ পরিমার্জনের কাজ শুরু হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল করার উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।মেটা বিবরণ: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। বিহারের পর বাকি রাজ্যগুলিতে এপ্রিল থেকে শুরু হতে পারে কাজ, প্রস্তুতির নির্দেশ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
কলকাতা

চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়নি কেন? জবাব চাইল কমিশন

এসআইআর ও ভোটার তালিকা পরিমার্জন নিয়ে দিল্লিতে প্রশ্নের মুখে বাংলার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। কাজ বিলম্বের দায় রাজ্যের ওপর চাপাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের প্রস্তুতি নিয়েও চাইল রিপোর্ট।ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দিল্লিতে প্রশ্নের মুখে পড়লেন বাংলার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, জাতীয় নির্বাচন কমিশন-এর ফুল বেঞ্চের বৈঠকে তাঁকে একাধিক বিষয়ে জবাব দিতে হয়।কমিশনের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য যে পদমর্যাদার আধিকারিকদের চাওয়া হয়েছিল, রাজ্য সময়মতো তা দেয়নি। তার ফলেই ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি। এই বিলম্বের দায় রাজ্যের ওপরই চাপিয়েছে কমিশন।তবে মুখ্যসচিব বৈঠকে জানান, রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে এক দফতর থেকে অন্য দফতরে আধিকারিকদের দ্রুত সরানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু কমিশনের দাবি, যেসব আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজ্য গড়িমসি করছে।এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের দরবারে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। রাজ্যকে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিতে বলা হলেও তা জমা পড়েনি বলে অভিযোগ। চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। এই সমস্ত বিষয়েই ব্যাখ্যা চাইতে মুখ্যসচিবকে তলব করা হয়েছিল। সমন মেনে তিনি দিল্লিতে হাজির হন এবং বৈঠকে অংশ নেন।এদিনের বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ভোটের আগে নির্দেশিকা অনুযায়ী আধিকারিক বদলির কী অবস্থা, তা জানতে চেয়েছে কমিশন। প্রশাসনিক প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।রাজ্য সরকার যে রিপোর্ট দেবে, তার ভিত্তিতেই কত দফায় ভোট হবে, তা নির্ধারণ করবে কমিশন। পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো পাওয়া গেলে ভোটের দফা কমানো সম্ভব হতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিভিসির জল ছাড়ায় বাড়ছে বিপদ! ৫০ হাজার কিউসেক পেরিয়ে জল, এবার কি প্লাবনের আশঙ্কা?

টানা বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। তার জেরে দ্রুত বাড়ছে ডিভিসির বিভিন্ন জলাধারের জলস্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইথন এবং পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ফলে দামোদর সংলগ্ন নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জলাধার থেকে গড়ে প্রায় ৬৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে।দুই ড্যাম মিলিয়ে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে দামোদর নদেও জলস্তর বাড়ছে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে দফায় দফায় ছাড়া জল পৌঁছচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে।বুধবার সকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে প্রায় ৯৭ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে খবর। সে ক্ষেত্রে নিম্ন দামোদর এলাকার একাধিক জায়গায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।ইতিমধ্যেই টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও কোথাও জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। জাতীয় সড়কেও তার প্রভাব পড়েছে।এর মধ্যেই দুর্যোগের আরও একটি ছবি ধরা পড়েছে খনি অঞ্চলে। টানা বৃষ্টির জেরে পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরের ৭ এবং ৯ নম্বর পিট এলাকায় আচমকা ধস নামে। লোকালয়ের একেবারে কাছে মাটি বসে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খনি আবাসনের কাছেই ধস নামায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরেই আচমকা মাটি বসে ধস নেমেছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ধসের জায়গায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই এলাকায় এর আগেও ধস নেমেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৮ সালেও একই জায়গায় ধস হয়েছিল। সেই সময় ধসের জায়গাটি খনি কর্তৃপক্ষের তরফে যথাযথ ভাবে মেরামত করা হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার যাদবের অভিযোগ, খনি কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দ্রুত ধসের জায়গা মেরামত করার পাশাপাশি গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।একদিকে ড্যাম থেকে বাড়ছে জল ছাড়ার পরিমাণ, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে খনি এলাকায় ধসের ঘটনা। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় দুর্যোগের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

টোল দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতায় ইডির হানা! শেক্সপিয়র সরণির আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে সকালেই তল্লাশি

জাতীয় সড়কের টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বুধবার সকালে কলকাতায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শেক্সপিয়র সরণির একটি আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সাত রাজ্যের মোট ১৪টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে খবর।বুধবার সকালেই ছয় সদস্যের ইডির একটি দল শেক্সপিয়র সরণির ওই আবাসনে পৌঁছয়। যে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়, সেখানে ব্যবসায়ীর অফিসও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আবাসনটি ঘিরে রাখেন। আচমকা এই তল্লাশি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কে টোল আদায় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।অভিযোগ, বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে জাতীয় সড়কে নিয়মের বাইরে টোল আদায় করা হত। অনুমোদিত নয় এমন টোলের রসিদ তৈরি করে গাড়িচালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। পরে সেই টাকা বিভিন্ন কৌশলে সরিয়ে ফেলা হত বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ।অভিযোগ আরও, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হত। ফলে সরকারি নথিতে সেই লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ধরা পড়ত না। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।এই অভিযোগের তদন্তে নেমে ডিজিটাল নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। টোল থেকে আদায় করা বেআইনি টাকা কোথায় গিয়েছে, কারা সেই টাকার সঙ্গে যুক্ত এবং পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যে আর কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান-সহ সাতটি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।তবে কলকাতার ব্যবসায়ীর সঙ্গে টোল দুর্নীতির অভিযোগের যোগসূত্র ঠিক কোথায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শেক্সপিয়র সরণির ওই ফ্ল্যাট থেকে কী ধরনের নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্তকারীরা এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে কলকাতায় এই তল্লাশির নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফের ছুটল ভারত! ৫.৫ টন ওষুধ আর ১১ উদ্ধারকারী নিয়ে উড়ল বায়ুসেনার বিমান

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও বড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ৫.৫ টন প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১ জনের উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার পঞ্চম বিমান।ভারতের তরফে আগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই নেপালের বিপর্যয়কবলিত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। রসুয়ার শিবিরে সেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর নেপাল সেনার হাতে তা তুলে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজেও সহযোগিতা করছে ভারত।ইন্দো-নেপাল সীমান্তে উদ্ধারকাজে তৎপরতার সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এই বাহিনী। বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার ও সহযোগিতার কাজেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।২৬ অগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের হড়পা বানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০০৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও চার হাজারেরও বেশি মানুষের কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে আরও কোনও ভারতীয় রয়েছেন কি না, সেই তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।বিপর্যয়ের পর মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং কোনও মৃত ব্যক্তি ভারতীয় হলে তাঁর দেহ কী ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। স্বজনেরা কী ভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে কী ভাবে দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হয়েছে।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ হড়পা বান সেই আশঙ্কারই নতুন করে বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জও সতর্ক করেছে।এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে ভারতের একের পর এক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার তৎপরতায় বিপর্যস্ত নেপালের মানুষকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

গলব্লাডারের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার! প্রকাশ্যে আসতেই গোপালকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে পিত্তথলির পাথরের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বেলেঘাটার বাসিন্দা গোপাল পোড়েল। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তর। গোপালের দাবি, তাঁর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও চেয়ে পাঠানো হয়েছে।পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার বাসিন্দা গোপাল পোড়েলের বয়স ৪৭ বছর। তিনি একশো দিনের কাজ করে সংসার চালান। বেশ কিছু দিন ধরে পেটের ডান দিকে ব্যথা হচ্ছিল তাঁর। চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করানো হলে পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ে।গোপালের অভিযোগ, পিত্তথলির পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্যই তাঁকে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। কিন্তু তাঁর দাবি, পিত্তথলির বদলে ভুল করে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করে দেওয়া হয়।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন গোপালের এলাকার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিষয়টি সামনে আসার পর গলব্লাডারের পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্য গোপালকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল।তবে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা বিভ্রাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগটি খারিজ করে দেন।এর মধ্যেই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে আসে। দপ্তরের তরফে প্রথমে বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ফোন করা হয় গোপাল পোড়েলের সঙ্গে।গোপালের দাবি, তিনি আর্থিক ভাবে অত্যন্ত দুর্বল। চিকিৎসার খরচ চালানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ তাঁর হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাঁকে জানানো হয়, চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।গোপাল আরও জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই নথি খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে ঠিক কী কারণে এমন অভিযোগ উঠল, অস্ত্রোপচারের আগে এবং পরে কী কী পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
রাজ্য

বৃষ্টি থামার নাম নেই! কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আজও ভারী বৃষ্টি, বৃহস্পতিবার থেকে বদলাবে আবহাওয়া

নিম্নচাপের প্রভাব এখনও কাটেনি। ফলে বাংলায় নাছোড় বৃষ্টি এখনই থামার সম্ভাবনা নেই। বুধবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য জেলাগুলিতে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট।সেপ্টেম্বরের শুরুতেও বর্ষার দাপট অব্যাহত। সামনে পুজো। তাই কবে বৃষ্টি কমবে, কবে মিলবে পরিষ্কার আকাশের দেখা, সেই প্রশ্নই এখন অনেকের মনে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি।বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে একাধিক নদীতে জলস্তর বেড়েছে। কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। কয়েকটি জেলায় হলুদ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, নিম্নচাপটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা উপকূল, সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের এলাকায় রয়েছে। ধীরে ধীরে সেটি ঝাড়খণ্ডের দিকে এগোচ্ছে। তবে তার প্রভাবে এখনও বাংলায় জলীয় বাষ্প ঢুকছে। ফলে বৃষ্টির পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটছে না।বুধবার কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে দিনভর বিক্ষিপ্ত ভাবে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বীরভূম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপ অবস্থান করায় সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তার জেরেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমতে পারে। তবে পুরোপুরি বৃষ্টি বন্ধ হচ্ছে না। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে।অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার থেকে বদলাতে পারে। উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলা দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষ করে শুক্রবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে দক্ষিণবঙ্গে যখন ধীরে ধীরে বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তখন উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় নতুন করে বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা।সব মিলিয়ে পুজোর আগে বাংলার আকাশ থেকে বর্ষার দাপট কবে পুরোপুরি কাটবে, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের প্লাবনের পর নদীতে অচেনা মাছের ঢল, খেলে অসুস্থ হচ্ছেন গ্রামবাসী! বড় সতর্কতা

নেপালের ভয়ংকর প্লাবনের প্রভাব এবার বিহারের নদীগুলিতেও পড়েছে। ত্রিশূলী নদীর জল গণ্ডক ও কোসি নদীতে এসে জলস্তর বাড়িয়ে দিয়েছে। এর জেরে উত্তর বিহারের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদী ও বন্যার জলে ভেসে আসছে প্রচুর মাছ। কিন্তু সেই মাছ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিহার প্রশাসন।বিহারের দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের আপাতত নদী, পুকুর, হ্রদ বা জলাধার থেকে মাছ না ধরার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু মাছ ধরা নয়, সেই মাছ কেনা, বিক্রি করা এবং খাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বন্যার সময় নদী ও জলাশয়ের মাছ প্রবল জলস্রোতে দূরের এলাকায় চলে যেতে পারে। বন্যার জলের সঙ্গে দূষিত নর্দমার জল, মৃত প্রাণী এবং বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থও নদী ও জলাশয়ে মিশে যায়। ফলে ওই জলে থাকা মাছের শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু থাকার আশঙ্কা থাকে।বন্যাকবলিত এলাকায় কিছু অপরিচিত প্রজাতির মাছও দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই মাছ খেয়ে কয়েক জন অসুস্থ হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে মাছ খাওয়ার সঙ্গে অসুস্থতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কোনও ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। বন্যার জল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে মাছ ধরে খাওয়া বা বাজারে বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপালের প্রশাসনের তরফেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রচুর মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মৃতদেহ এবং মৃত পশুর দেহ পড়ে থাকার খবর সামনে এসেছে। এর ফলে বন্যার জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।এই পরিস্থিতিতে নদী বা বন্যার জল থেকে ভেসে আসা মাছকে নিরাপদ মনে না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সম্পাদকীয়

আগুনপাখির জন্মদিনে—ফিরে দেখা সেই বিকেলের সোনারোদ

কিছু কিছু মানুষের জন্মদিন আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর কিছু মানুষের জন্মদিন ফিরে আসে আমাদের স্মৃতির ভিতর দিয়ে। ১ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন।বাংলা গানের অমূল্য রতন নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিন।এই দিনটিকে শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন বললে বোধহয় তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ নচিকেতা শুধু গান করেননিতিনি এক সময়কে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রজন্মের রাগ, অভিমান, প্রেম, হতাশা, স্বপ্নভঙ্গ, নিঃসঙ্গতা আর বেঁচে থাকার জেদকে শব্দ দিয়েছেন। তাঁর গান শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা মানুষগুলির কাছে নচিকেতা কোনও দূরের তারকা নন; তিনি বরং সেই পুরনো বন্ধুর মতো, যার সঙ্গে বহু বছর দেখা না হলেও হঠাৎ কোনও সন্ধ্যায় তাঁর গলা শুনলেই মনে হয়এই তো, মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই আছে।নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ।বাংলা গানের আকাশটা তখন কেমন যেন ক্লান্ত। একদিকে পুরনো দিনের সুরের নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন সময়ের হাওয়ার টান। বাংলা আধুনিক গান যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নতুন ভাষার অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার মাঝেই একদিন ঝড়ের মতো এসে দাঁড়ালেন এক যুবক।চেহারায় প্রচলিত নায়কোচিত চাকচিক্য নেই। রংবাহারী পোশাক, পায়ে স্নিকার, মুখে অগোছালো দাড়ি। হাতে গিটার। আর কণ্ঠে এমন এক স্বর, যার মধ্যে মিশে আছে শহরের ধুলো, মধ্যবিত্তের ক্লান্তি, প্রেমের দীর্ঘশ্বাস আর অদ্ভুত এক বিদ্রোহ।তিনি নচিকেতা।মঞ্চে উঠে তিনি শুধু গান গাইতেন না। গান থামিয়ে শ্রোতার সঙ্গে কথা বলতেন। আবার কথার মাঝেই গান ঢুকে যেত। কখনও হাসাতেন, কখনও অস্বস্তিতে ফেলতেন, কখনও এমন কোনও কথা বলে বসতেন, যা বাড়ি ফেরার পরও মাথার মধ্যে ঘুরত।সেই সময় বাংলা গানের মঞ্চে যেন একটি গান-এর বদলে একজন মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আর মানুষটি খুব দ্রুত আপন হয়ে গিয়েছিলেন।তারপর একদিন গান আর গান রইল নানচিকেতার গান প্রথমবার শুনে হয়তো কেউ চমকে উঠেছিল। দ্বিতীয়বার শুনে মুগ্ধ হয়েছিল। আর তৃতীয়বারের পর বুঝেছিলএই গান তো আসলে তার নিজের কথা!এই ছিল নচিকেতার জাদু।তিনি কোনও দূরদেশের প্রেমের গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পাশের বাড়ির মানুষের গল্প বলেছেন। যে বাবা অবসরের পর সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন, যে মার সব থেকেও বৃদ্ধাশ্রমে বাস, যে ছেলে চাকরি না পেয়ে রাত জাগে, যে মেয়ে প্রেম হারিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, যে মানুষটি ভিড়ের শহরে থেকেও ভীষণ একানচিকেতা তাঁদেরই গল্প গেয়েছেন।তাই তাঁর গান শুনতে শুনতে মনে হত, তিনি আমাদের চেনেন। খুব কাছ থেকে চেনেন।নীলাঞ্জনা যখন বাজত, কোনও এক পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ত। বৃদ্ধাশ্রম শুনলে নিজের বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করত। আর যখন তাঁর কণ্ঠে উঠে আসতভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদতখন মনে হত, এই তো আমাদের শহর!এই তো আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেল!কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে যে আকাশটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে ছোট হয়ে যাচ্ছে, নচিকেতা সেই আকাশের জন্যও গান লিখেছেন।নচিকেতা ছিলেন এক প্রজন্মের ডায়েরিএকটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে অনেক কিছু লেখা থাকে। প্রথম প্রেম, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, বাড়িতে অশান্তি, মধ্যরাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা।নচিকেতার গান যেন সেই ডায়েরির পাতাগুলির পাশে লেখা ছিল।ক্যাসেটের যুগ ছিল তখন।একটি গান পছন্দ হলে বারবার রিওয়াইন্ড করতে হত। ফিতে কেঁপে কেঁপে গান ফিরত। কোনও কোনও ক্যাসেট এতবার বাজত যে তার শব্দেও যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে যেত।বন্ধুর বাড়িতে বসে নচিকেতার গান শোনা।কলেজের ক্যান্টিনে তাঁর গান নিয়ে তর্ক।রাতের অন্ধকারে হেডফোন কানে দিয়ে নীলাঞ্জনা শোনা।কারও প্রেম ভেঙে গেলে তাকে নচিকেতার গান শোনানো।কেউ চাকরি না পেলে বেকারে যন্ত্রনায় মলম লাগাতে তার পাশে বসে সারে জাঁহা সে আচ্ছা গুনগুন করা।শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও চারপাশের অসঙ্গতি। গানটি শুরুই হয় বেকার যুবকের আত্মপরিচয় দিয়ে।এসবই ছিল এক সময়ের জীবন।আজকের প্রজন্ম হয়তো বুঝবে না, একটি গান তখন কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠত। কোনও অ্যালগরিদম ছিল না, রেকমেন্ডেড ফর ইউ ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুর হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো ক্যাসেট, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গান আর মানুষের নিজস্ব পছন্দ।সেইভাবেই নচিকেতা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।জীবনমুখীশুধু একটি শব্দ নয়নচিকেতার সঙ্গে জীবনমুখী শব্দটি এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে দুটি শব্দকে আলাদা করা কঠিন।কিন্তু তাঁর গানকে শুধু একটি ঘরানার মধ্যে আটকে রাখাও ভুল।তিনি জীবনকে দেখেছেন বহু দিক থেকে।কখনও তাঁর চোখে জীবন তীব্র ব্যঙ্গের। কখনও বিষণ্ণ। কখনও প্রেমময়। কখনও ক্ষুব্ধ। কখনও নিঃসঙ্গ। আবার কখনও আশাবাদী।তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছেজীবন সুন্দর, কিন্তু সবসময় সুন্দর নয়।ভালোবাসা আছে, কিন্তু সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।পরিবার আছে, কিন্তু পরিবারের মধ্যেও মানুষ একা হতে পারে।শহর আছে, কিন্তু শহরের হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের জন্য একটা জানালা খুঁজে পাওয়া কঠিন।এই সত্যগুলিকে তিনি কোনও বক্তৃতার ভাষায় বলেননি। বলেছেন গানের ভাষায়।আর তাই তাঁর কথা সরাসরি গিয়ে বসেছে মানুষের বুকের মধ্যে।বৃদ্ধাশ্রমএকটি গান, একটি আয়নানচিকেতার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে বৃদ্ধাশ্রম যেন আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকে।এটি কেবল বাবা-মাকে নিয়ে লেখা আবেগের গান নয়। এটি আমাদের সামাজিক বিবেকের সামনে রাখা একটি আয়না।বয়স হয়ে যাওয়া মানুষটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নাএই সহজ অথচ গভীর সত্যটি নচিকেতা গানের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছেন।গানটি শুনতে শুনতে কত মানুষ হয়তো নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবেছেন। কত মানুষ হয়তো ফোন তুলে বাড়িতে কথা বলেছেন। কত মানুষ হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ মুছেছেন।একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে?যে গান শ্রোতার জীবনকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বদলে দেয়, সেই গানই তো বেঁচে থাকে।আর নীলাঞ্জনাস্মৃতির নীল আলোঅন্যদিকে নীলাঞ্জনা আমাদের নিয়ে যায় একেবারে অন্য জগতে।প্রেমের গান বাংলা গানে নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু নচিকেতার প্রেমের ভাষা ছিল অন্যরকম। সেখানে প্রেমের সঙ্গে ছিল সময়, স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা।নীলাঞ্জনা শুনলে শুধু একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে একটা সময়ের কথা।মনে পড়ে সেই বয়স, যখন সন্ধ্যা নামলেই কারও জন্য অপেক্ষা করা যেত। ফোনের রিং বাজলে বুক কেঁপে উঠত। একটি চিঠি কয়েকদিন ধরে বালিশের নিচে রেখে দেওয়া যেত।আজ সেই সময় নেই।মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, মুহূর্তে বার্তা পৌঁছে যায়। কিন্তু অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।তাই নচিকেতার গান শুনলে শুধু গান শোনা হয় নাএকটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে ছুঁয়ে দেখা হয়।আগুনপাখি কেন?নচিকেতা থেকে আগুনপাখি হয়ে ওঠার গল্প আসলে তাঁর শ্রোতাদের গল্পও।তিনি আগুনের মতো এসেছিলেন। প্রচলিত গানের অনেক ধারণাকে প্রশ্ন করেছিলেন। গানের বিষয়কে বদলেছিলেন। গায়ক-শ্রোতার দূরত্ব কমিয়েছিলেন।তাঁর গান বলেছিলগান শুধু সাজানো শব্দ নয়।গান প্রশ্ন করতে পারে।গান প্রতিবাদ করতে পারে।গান হাসাতে পারে।গান কাঁদাতে পারে।গান নিজের ঘরের দরজা খুলে দিতে পারে।আর গান কখনও কখনও আয়নার মতো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেদেখো, এটাই তোমার জীবন।এই কারণেই তিনি আগুনপাখি।সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, গান বুড়িয়ে যায়নিনচিকেতার জীবনে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলা গানের জগতেও এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন। নতুন শিল্পী এসেছেন, নতুন সুর এসেছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে।কিন্তু নচিকেতার গান এখনও শোনা হয়।কারণ তাঁর গান কোনও নির্দিষ্ট দশকের সম্পত্তি নয়।যে বাবা-মায়ের কথা তিনি গেয়েছিলেন, তাঁরা আজও আছেন।যে প্রেমের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই প্রেম আজও মানুষকে কাঁদায়।যে একাকিত্বের কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজ আরও গভীর।যে শহরের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই শহর আজ আরও কংক্রিটে ঢাকা।আর যে মানুষটির কথা তিনি গেয়েছিলেনসেই সাধারণ মানুষটি আজও ঠিক তেমনই বেঁচে আছে।তাই তাঁর গান পুরনো হয় না।বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গান যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।আজ জন্মদিনে তাঁকে মনে পড়ছে অন্যভাবেআজ যখন নচিকেতার জন্মদিন, তখন মনে হয়আমরা কি তাঁকে শুধুই তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে মনে রাখব?না।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই সাহসটির জন্য, যা বাংলা গানে একসময় প্রয়োজন ছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই ভাষার জন্য, যা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গানের ভাষা করে তুলেছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই কণ্ঠের জন্য, যার মধ্যে কোনও কৃত্রিম মাধুর্য ছিল নাছিল জীবনের খসখসে বাস্তবতা।আর সবচেয়ে বেশি মনে রাখা উচিত সেই মানুষটিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেনগান শুনে শুধু আনন্দ পেতে নেই, কখনও কখনও নিজের দিকে তাকাতেও হয়।আজও হয়তো কোনও পুরনো ক্যাসেটের বাক্সে তাঁর গান পড়ে আছে।কোনও পুরনো অ্যালবামের মলাটে সময়ের ধুলো জমেছে।কোনও এক মধ্যবয়সী মানুষ অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ ইউটিউবে নচিকেতার গান চালিয়ে দিয়েছেন।গান শুরু হয়েছে।আর মুহূর্তের মধ্যে তিরিশ বছর পেছনে চলে গেছেন তিনি।সেই পুরনো ঘর।সেই জানালা।সেই বিকেল।সেই অসমাপ্ত প্রেম।সেই বন্ধুটি।সেই বয়স।সেই স্বপ্ন।আর কোথাও খুব দূরে, কিংবা খুব কাছে, নচিকেতার কণ্ঠ ভেসে আসছে।ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদহয়তো সত্যিই আমাদের জীবনের অনেক সোনারোদ হারিয়ে গেছে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপারনচিকেতার গান সেই হারিয়ে যাওয়া রোদটুকু এখনও ফিরিয়ে দিতে পারে।এই তো একজন সত্যিকারের শিল্পীর সাফল্য।তিনি চলে যান না।সময় তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে না।প্রজন্ম বদলে যায়, গান শোনার মাধ্যম বদলে যায়, শহরের চেহারা বদলে যায়তবু তাঁর কোনও একটি গান হঠাৎ কোথাও বাজে, আর আমরা থমকে দাঁড়াই।মনে হয়এই গানটা তো আমারই কথা।এই অনুভূতিটুকুই নচিকেতার সবচেয়ে বড় অর্জন।তাই আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা নয়।একটি প্রজন্মের হয়ে কৃতজ্ঞতা।সেইসব বিকেলের জন্য, যেগুলিকে তিনি গানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।সেইসব কান্নার জন্য, যেগুলির ভাষা তিনি দিয়েছেন।সেইসব প্রেমের জন্য, যেগুলি পূর্ণতা পায়নি।সেইসব বাবা-মায়ের জন্য, যাঁদের নিঃসঙ্গতার কথা তিনি আমাদের শুনিয়েছেন।সেইসব মধ্যবিত্ত স্বপ্নের জন্য, যেগুলি ভেঙেও মানুষকে বাঁচতে হয়।আর সেইসব মানুষের জন্য, যারা এখনও কোনও এক নির্জন রাতে নচিকেতার গান শুনে মনে মনে বলেএ গানটা যেন আমারই জন্য লেখাজন্মদিনে তাই প্রিয় নচিকেতা, আপনাকে প্রণাম।বাংলা গানের আকাশে আপনার সেই আগুনপাখি আজও উড়ে বেড়াক।আর আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলির আকাশেএকটু সোনারোদ হয়ে থাকুক আপনার গান।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal